Home ভ্রমণ পৃথিবীর স্বর্গ ‘কাশ্মীর’

পৃথিবীর স্বর্গ ‘কাশ্মীর’

0
3,285
কাশ্মীর

ছোট বেলা থেকেই এই কথাটা শুনে আসছিলাম পৃথিবীতে যদি কোথাও স্বর্গ থেকে থাকে সেটা হচ্ছে কাশ্মীর। সেই সময় থেকেই বুকের ভিতর স্বপ্ন বুনতে থাকি কাশ্মীর যাওয়ার। বড় হওয়ার সাথে সাথে ভ্রমণের নেশা আরো তীব্রতর হতে থাকে তার সাথে কাশ্মীর ও হাত ছানি দিয়ে ডাকতে শুরু করে।

চার বন্ধু মিলে কাশ্মীর যাওয়ার প্ল্যান করে ফেলি। আমি(পলাশ), অভিজিৎ, বাশার আর শুভ। যেহেতু আমরা চারজন-ই ছাত্র তাই কিভাবে সস্তায় যাওয়া যায় সেই তথ্য গুগল মামা থেকে ভালোভাবে জেনে নেই।
আমরা ছাব্বিশ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে রাতে কলকাতার উদ্দ্যেশে বাসে উঠি। পর দিন সকালে বর্ডারের ঝাঁক্কি ঝামেলা শেষ করে দুপুর নাগাদ কলকাতা পৌছে যাই। আমাদের ট্রেনের টিকেট আটাশ তারিখের কাটা ছিল, প্রায় এক মাস আগেই। কলকাতায় একদিন বিশ্রাম নিয়ে আঠাশ তারিখ দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে আমরা ট্রেনে উঠি। প্রথমে প্রায় তিন দিনের জার্নি ভেবে মাথা তিন পাক অবশ্য মেরেছিল তবে ট্রেনে উঠার সাথে সাথে কাশ্মীর যাওয়ার উত্তেজনা সব ক্লান্তি আর চিন্তা ম্লান করে দিয়েছিল। ট্রেন চলছে তার আপন গতিতে। একের পর এক স্টেশন আর একের পর এক প্রদেশ পার হতে থাকি আমরা। ট্রেনের মধ্যেই চলতে থাকে আমাদের স্নান, খাওয়া সব কিছু। ট্রেনে যতটা বিরক্ত লাগবে ভেবেছিলাম তার ছিটেফুটাও আমার লাগে নি। কারণ আমি দেখছিলাম নানান রকম মানুষের নানান রকম অভ্যাস। শিশুরা যেমন তার চারপাশে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তেমনি আমিও তাকিয়ে দেখছিলাম চারপাশ, আর শিখছিলাম। অবশেষে ত্রিশ তারিখ বিকেল পাঁচটায় আমরা নামি জম্মু তাউয়াই স্টেশনে। এখানে নেমেই আমরা প্রথম যে সমস্যার সম্মুখীন হই তা হচ্ছে আমাদের চার জনের সিম বিকল হয়ে পরে। কাশ্মীরে শুধু ওই খানের সিম-ই চলে আর ওখান থেকে সিম নিতে হলে চাই আধার কার্ড।
যাইহোক কোন রকম নেটের মাধ্যমে আমারা পৌঁছেছি এই খবর টা দিয়ে উঠে পরি আমরা সেই দিন সন্ধ্যায় শ্রীনগর যাওয়ার বাসে।
শ্রীনগর পৌঁছাই সকাল সাত ঘটিকায়। এখান থেকেই আমাদের কাশ্মীর দেখা শুরু।

প্রথম দিনঃ ডাল লেকের পাশে হোটেল বুক করে ফ্রেশ হয়ে আমরা বের হয়ে পরি আশে পাশের যায়গা গুলো ঘুরে দেখার জন্য। ডাল লেকের আশে পাশে মনমুগ্ধ অনেক যায়গা রয়েছে যা সত্যি-ই সিনেমা থেকে অনেক সুন্দর। এই যায়গা গুলো শিকারা(নৌকা) দিয়ে ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য। ডালালেকে থেকে আশে পাশের স্থান সমূহ হচ্ছেঃ
হজরত বাল মসজিদ, নেহেরু পার্ক, মিনা বাজার(ভাসমান), মোগল গার্ডেনগুলো, পরীমহল।

দ্বিতীয় দিনঃ পর দিন আমরা পেহেলগামের উদ্দ্যেশে রওনা হই। সাধারণত বেশিভাগ মানুষ সেখানে গাড়ি রির্জাভ করে যায় তবে আমরা গিয়েছিলাম ভেঙ্গে ভেঙ্গে। ডাল লেক থেকে আনান্তনাগ, আনান্তনাগ থেকে বাসে পেহেলামগাম।
পেহেলগাম দেখে মনে হচ্ছিল আমি একটা আইসক্রিমের শহরে এসছি কারণ পুরো শহরটাই শাদা বরফে ঢাকা। চারিপাশে উঁচু উঁচু পর্বত। পেহেলগামে রয়েছে আরু ভ্যালী, বেতাব ভ্যালী, চন্দনওয়ারী এই স্থান গুলো গাড়ী ছাড়া যাওয়ার কোন উপায় নেই।
আরও রয়েছে মিনি সুইজারল্যান্ড, লিডার নদী, পাইনের অরণ্য
এই স্থান গুলোতে যেতে হলে আপনাকে ঘোড়া নিতে হবে যার জন্য জন প্রতি গুনতে হবে ১৫,০০-২,০০০ টাকা। এই জায়গা গুলো জঙ্গলের ভিতর দিয়ে গিয়েছে তাই হেটে গেলে পা হড়কে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে তাই এই যায়গা গুলোতে ঘোড়া করে যেতে হয়।

তৃতীয় দিনঃ পর দিন সকাল বেলায় আমরা হোটেল ছেড়ে দিয়ে চলে আসি ডাল লেক সেখান থেকে গুলমার্গ যাওয়ার জন্য পনেরশ টাকায় গাড়ী ঠিক করি। যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাদের জন্য গুলমার্গ সব চেয়ে উত্তম। কারণ এখান থেকে উঁচু পাহাড় হতে স্কেটিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন, সোনমার্গ, শ্রীনগর থেকে দুইশ কিলোমিটার দূরে কার্গীল।

সর্তকবার্তাঃ কাশ্মীর নিয়ে যত খারাপ খবর-ই আমরা শুনি না কেনো টুরিস্টদের জন্য একশ শতাংশ নিরাপদ আর অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ শীতের কাপড় সাথে নিয়ে যেতে হবে।
আমি ডাল লেকের পানি একদম স্বচ্চ দেখেছি, তাই নিচে চিপ্সের প্যাকেটের মত অনেক ডাস্ট খেয়াল করেছি যা আমাদের মতো টুরিস্টদের-ই ফেলানো। সকলের কাছে আমার বিনীত আবেদন থাকবে আমরা যেখানেই যাবো, যেনো কোন প্রকার ময়লা আবর্জনা না ফেলে আসি।

যেভাবে যাবেনঃ কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর বাই এয়ার ৫,০০০-৬,০০০( ইকোনমি ক্লাস)
কলকাতা টু কাশ্মীর বাই ট্রেন : ৮,০০-২৫,০০
জম্মু কাশ্মীর টু শ্রীনগর বাই বাসঃ ৪,০০-৭০০

ছোট বেলা থেকেই এই কথাটা শুনে আসছিলাম পৃথিবীতে যদি কোথাও স্বর্গ থেকে থাকে সেটা হচ্ছে কাশ্মীর। সেই সময় থেকেই বুকের ভিতর স্বপ্ন বুনতে থাকি কাশ্মীর যাওয়ার। বড় হওয়ার সাথে সাথে ভ্রমণের নেশা আরো তীব্রতর হতে থাকে তার সাথে কাশ্মীর ও হাত ছানি দিয়ে ডাকতে শুরু করে।

চার বন্ধু মিলে কাশ্মীর যাওয়ার প্ল্যান করে ফেলি। আমি(পলাশ), অভিজিৎ, বাশার আর শুভ। যেহেতু আমরা চারজন-ই ছাত্র তাই কিভাবে সস্তায় যাওয়া যায় সেই তথ্য গুগল মামা থেকে ভালোভাবে জেনে নেই।
আমরা ছাব্বিশ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে রাতে কলকাতার উদ্দ্যেশে বাসে উঠি। পর দিন সকালে বর্ডারের ঝাঁক্কি ঝামেলা শেষ করে দুপুর নাগাদ কলকাতা পৌছে যাই। আমাদের ট্রেনের টিকেট আটাশ তারিখের কাটা ছিল, প্রায় এক মাস আগেই। কলকাতায় একদিন বিশ্রাম নিয়ে আঠাশ তারিখ দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে আমরা ট্রেনে উঠি। প্রথমে প্রায় তিন দিনের জার্নি ভেবে মাথা তিন পাক অবশ্য মেরেছিল তবে ট্রেনে উঠার সাথে সাথে কাশ্মীর যাওয়ার উত্তেজনা সব ক্লান্তি আর চিন্তা ম্লান করে দিয়েছিল। ট্রেন চলছে তার আপন গতিতে। একের পর এক স্টেশন আর একের পর এক প্রদেশ পার হতে থাকি আমরা। ট্রেনের মধ্যেই চলতে থাকে আমাদের স্নান, খাওয়া সব কিছু। ট্রেনে যতটা বিরক্ত লাগবে ভেবেছিলাম তার ছিটেফুটাও আমার লাগে নি। কারণ আমি দেখছিলাম নানান রকম মানুষের নানান রকম অভ্যাস। শিশুরা যেমন তার চারপাশে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তেমনি আমিও তাকিয়ে দেখছিলাম চারপাশ, আর শিখছিলাম। অবশেষে ত্রিশ তারিখ বিকেল পাঁচটায় আমরা নামি জম্মু তাউয়াই স্টেশনে। এখানে নেমেই আমরা প্রথম যে সমস্যার সম্মুখীন হই তা হচ্ছে আমাদের চার জনের সিম বিকল হয়ে পরে। কাশ্মীরে শুধু ওই খানের সিম-ই চলে আর ওখান থেকে সিম নিতে হলে চাই আধার কার্ড।
যাইহোক কোন রকম নেটের মাধ্যমে আমারা পৌঁছেছি এই খবর টা দিয়ে উঠে পরি আমরা সেই দিন সন্ধ্যায় শ্রীনগর যাওয়ার বাসে।
শ্রীনগর পৌঁছাই সকাল সাত ঘটিকায়। এখান থেকেই আমাদের কাশ্মীর দেখা শুরু।

প্রথম দিনঃ ডাল লেকের পাশে হোটেল বুক করে ফ্রেশ হয়ে আমরা বের হয়ে পরি আশে পাশের যায়গা গুলো ঘুরে দেখার জন্য। ডাল লেকের আশে পাশে মনমুগ্ধ অনেক যায়গা রয়েছে যা সত্যি-ই সিনেমা থেকে অনেক সুন্দর। এই যায়গা গুলো শিকারা(নৌকা) দিয়ে ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য। ডালালেকে থেকে আশে পাশের স্থান সমূহ হচ্ছেঃ
হজরত বাল মসজিদ, নেহেরু পার্ক, মিনা বাজার(ভাসমান), মোগল গার্ডেনগুলো, পরীমহল।

দ্বিতীয় দিনঃ পর দিন আমরা পেহেলগামের উদ্দ্যেশে রওনা হই। সাধারণত বেশিভাগ মানুষ সেখানে গাড়ি রির্জাভ করে যায় তবে আমরা গিয়েছিলাম ভেঙ্গে ভেঙ্গে। ডাল লেক থেকে আনান্তনাগ, আনান্তনাগ থেকে বাসে পেহেলামগাম।
পেহেলগাম দেখে মনে হচ্ছিল আমি একটা আইসক্রিমের শহরে এসছি কারণ পুরো শহরটাই শাদা বরফে ঢাকা। চারিপাশে উঁচু উঁচু পর্বত। পেহেলগামে রয়েছে আরু ভ্যালী, বেতাব ভ্যালী, চন্দনওয়ারী এই স্থান গুলো গাড়ী ছাড়া যাওয়ার কোন উপায় নেই।
আরও রয়েছে মিনি সুইজারল্যান্ড, লিডার নদী, পাইনের অরণ্য
এই স্থান গুলোতে যেতে হলে আপনাকে ঘোড়া নিতে হবে যার জন্য জন প্রতি গুনতে হবে ১৫,০০-২,০০০ টাকা। এই জায়গা গুলো জঙ্গলের ভিতর দিয়ে গিয়েছে তাই হেটে গেলে পা হড়কে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে তাই এই যায়গা গুলোতে ঘোড়া করে যেতে হয়।

তৃতীয় দিনঃ পর দিন সকাল বেলায় আমরা হোটেল ছেড়ে দিয়ে চলে আসি ডাল লেক সেখান থেকে গুলমার্গ যাওয়ার জন্য পনেরশ টাকায় গাড়ী ঠিক করি। যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাদের জন্য গুলমার্গ সব চেয়ে উত্তম। কারণ এখান থেকে উঁচু পাহাড় হতে স্কেটিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন, সোনমার্গ, শ্রীনগর থেকে দুইশ কিলোমিটার দূরে কার্গীল।

সর্তকবার্তাঃ কাশ্মীর নিয়ে যত খারাপ খবর-ই আমরা শুনি না কেনো টুরিস্টদের জন্য একশ শতাংশ নিরাপদ আর অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ শীতের কাপড় সাথে নিয়ে যেতে হবে।
আমি ডাল লেকের পানি একদম স্বচ্চ দেখেছি, তাই নিচে চিপ্সের প্যাকেটের মত অনেক ডাস্ট খেয়াল করেছি যা আমাদের মতো টুরিস্টদের-ই ফেলানো। সকলের কাছে আমার বিনীত আবেদন থাকবে আমরা যেখানেই যাবো, যেনো কোন প্রকার ময়লা আবর্জনা না ফেলে আসি।

যেভাবে যাবেনঃ কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর বাই এয়ার ৫,০০০-৬,০০০( ইকোনমি ক্লাস)
কলকাতা টু কাশ্মীর বাই ট্রেন : ৮,০০-২৫,০০
জম্মু কাশ্মীর টু শ্রীনগর বাই বাসঃ ৪,০০-৭০০

 

লেখাঃ

Avijit Modak

Facebook Comments
  • কাশ্মীর

    ‘তাল গাছ কার?’ – মনির মোহাম্মদ

    নিউজ ডেস্ক,ফিচার,মনির মোহাম্মদঃ গোড়াতেই বলে রাখি আমি কোনো ইতিহাসবিদ নই, আন্তর্জাতিক রাজনীত…
Load More Related Articles
Load More By Newsbd24hour.com
Load More In ভ্রমণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

‘মনপুরা দ্বীপ’ ভ্রমণকাহিনী

মতামত,হোসেন আরিফঃ মোটামুটি কম খরচে একটা শর্ট ব্রেকের জন্য অসাধারণ জায়গা মনপুরা দ্বীপ।। সূর…