Home রাজনীতি পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হয়েও মা বাবাকে কখনো ঈদের পোষাক কিনে দিতে পারিনিঃ রনি

পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হয়েও মা বাবাকে কখনো ঈদের পোষাক কিনে দিতে পারিনিঃ রনি

0
165,696
ছাত্রলীগ নেতা রনি

অনলাইন ডেস্কঃ  কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে কি কারনে মারধর করতে বাধ্য হয়েছেন তা রনি তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে একটি হৃদয় বিদারক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ  করেন যা অনলাইনে ইতিমধ্যে বেশ আলোচিত হচ্ছে । সকল পাঠকের জ্ঞাতার্থে তাঁর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরছিঃ

তিনি বলেন,” ছাত্রলীগ সংগঠনকে বিদায় দিয়েছি।অনেকগুলো কলঙ্ক শরীরে লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা।আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে বলছি,নিজের পরিবারের আয়ের উৎসের মূলধন ভেঙ্গে রাশেদ ভাইয়ের সাথে ভার্সিটি ভর্তি কোচিং এ যুক্ত হয়েছিলাম।আমার অর্থ আর্থসাত হয়েছে জেনেও ২০ লাখ টাকা উল্টো চাঁদাবাজি মামলা করালেন।

পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হয়েও মা বাবাকে কখনো ঈদের পোষাক কিনে দিতে পারিনি।অথচ নিচের লেখাগুলো দেখলে বুঝবেন,রাশেদ ঈদের সময়েও কোন টাকা দিতে পারবেনা বলার পরেও চুপ ছিলাম।আমি মেনে নিয়েছি,বাবা হারাম টাকা খাওয়ার অনুমতি দেননি তাই তাদের ঈদ আনন্দ কি হয়েছিলো তা বলবোনা।রাশেদ কে বারবার পরিবারের সমস্যার কথা জানিয়ে আকুতি মিনতি করে বলতাম কেন আমাকে ডেকে এনে টাকা ধার নিয়ে বিপদে ফেলেছে ?কোচিংয়ের অংশীদার হয়েও লাভ লোকসান কেন জানি না? তার উত্তরগুলো পড়লেই জানতে পারবেন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সৎ উপায়ে কত কষ্ট করে সংগঠন করে তা মাফিয়া নেতারা বুঝেনা।কারন আমরা তাদের সম্তানদের মতো কোটি টাকার গাড়ি বিলাস করার সুযোগ পায়নি।রাশেদের শাস্তি তার বিবেক দিবে একসময়।কিন্তু মহামান্য অভিভাবক জেনে শুনে দুই মাস পূর্বের একটি ঘটনাকে অতিরন্জিত করে আমাকে চাঁদাবাজ বানিয়ে কি পেলেন?আমার মতো সাধারন পরিবারের পেটে লাথি পড়েছে,এসবের বিচার প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই।আল্লাহ সর্বশক্তিমান।হারামের টাকায় অন্ধ মানুষগুলোর জন্য কত মানুষ আজ নি:স্ব হয়েছে তার বিচার দুনিয়াতে না হলেও হাসরের ময়দানে পাবেন।”

রনি ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ নিয়েছেন । তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসছে । তাঁর নিজস্ব ইমেজের জন্য যাতে ছাত্রলীগের ক্ষতি না হয় সে জন্য তিনি ছাত্রলীগ থেকে নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেন । কিন্তু তাঁর হাজারো ভক্তসমাজ এ পদত্যাগ কোনভাবেই মেনে নিচ্ছে না ।

রনির  পদত্যাগ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা অাওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কাবেরী আক্তার বলেন,” রনির প্রতি যে আচরন করা হলো ‘ধিক্কার জানাই ঘুনে ধরা রাজনীতির প্রতি।শোষনমুক্ত সমাজ গঠনই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি।জামাতের ক্যাডার শিবিরের ভূয়া ডক্টর জাহেদ সাধারন ছাত্রদের কাছ থেকে অবৈধ টাকা আত্মসাৎ করাতে ছাত্রনেতা রনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন ছাত্রের অধিকারের পক্ষে।গত পাচঁ বছর আগে আমি নিজেই ভূয়া ডক্টর জাহেদের অবৈধ কলেজ ব্যবসা তুলবার কাজে চট্টগ্রাম দেবপাহাড় আবাসন স্হান থেকে এলাকার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনটি কলেজ উচ্ছেদ করেছিলাম।এই কাজ করতে গিয়ে আমাকে ভূয়া ডক্টর জাহেদ কে কয়েকবার ধাওয়া করতে হয়েছিল।চলমান শ্রেনীকক্ষ থেকে প্রিন্সিপ্যাল ও ছাত্রদের বের করতে হয়েছিল।সাইনবোর্ড পেট্রোল দিয়ে পোড়াতে হয়েছিল।কলেজ ভাড়া দেয়া বাড়ির মালিক জনৈক ডাক্তারের স্টেথিস্কোপ ভাঙতে হয়েছিল।আমাদের গ্রেফতার করতে চকবাজার ও কোতোয়ালী থানার পুলিশ ও আনা হয়েছিল।জনগনের স্বার্থে আইন মাঝে সাঝে নিজের হাতেই তুলে নিতে হয়।আইন মানুষের সৃষ্টি, আইনের উর্ধে মানুষ।আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে জিতে যাওয়া ছিল আইন নয় মানুষের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু চিন্তা করে ছিলেন বলেই।যে কথাটি বলছিলাম,সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়েছিলাম চাঁদার জন্য নয়। জনগনের কল্যানে।আবাসিক এলাকাকে বানিজ্যিক খাতে অপব্যবহার না করার জন্য।ব্যাঙের ছাতার মতো ভূয়া প্রতিষ্ঠান না হওয়ার জন্যও শিবিরের ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত না করার জন্য। পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব আল্লাহই সৃষ্টি করেন।সবাই টাকার লিপ্সু নয়।ঠিক তেমনি রনি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।সাপকে লম্বা ও ব্যাঙকে আমরা শুধু বেটে বলিনা।প্রয়োজনে সাপের বিষদাত আমরা ভাঙতে জানি।রনি আমাদের দূর্দান্ত সহযোদ্ধা। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলা রাজনৈতিক ভিংচামি ছাড়া আর কিছু নয়। রনি ও আমরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থেকে বিতাড়িত হলেও সততা ও দৃড় কন্ঠস্বরে রাজনীতি আমাদের কখনো ছাড়বেনা।
কিসের দুঃখ তোমার রনি!!!”

এই নিউজটি সবাই শেয়ার করুন ।

 

Facebook Comments
Load More Related Articles
Load More By Newsbd24hour.com
Load More In রাজনীতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ক্লাবগুলোতে রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসা,নিশ্চুপ কেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়?

বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘ক্যাসিনো অভিযান’ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছ…