Home রাজনীতি “২১শে আগস্টের মতো ঘটনার পরও সুশীল সমাজ কিভাবে বিএনপিকে সমর্থন দেয় তা আমার বোধগম্য নয়”

“২১শে আগস্টের মতো ঘটনার পরও সুশীল সমাজ কিভাবে বিএনপিকে সমর্থন দেয় তা আমার বোধগম্য নয়”

0
509
সাইফুল ইসলাম বিপ্লব

মতামত,সাইফুল ইসলাম বিপ্লবঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি কলঙ্কজনক ও রক্তাক্ত দিন এটি। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ৩০ বছর পর সেই আগস্ট মাসেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়। ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে জড়ো হয়েছিলেন সিনিয়র নেতারা। দলটির প্রধান এবং তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা ছিলেন ঐ সমাবেশের প্রধান অতিথি। তারেক রহমানের নির্দেশেই এ হামলা চালানো হয়েছে।যা পরবর্তী সময়ে বারবার প্রমাণিত হয়েছে।এতো এতো প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি কিভাবে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় তা আমার বোধগম্য হয় না।এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে চিরতরে শেষ করে দেয়া।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সমাবেশে কয়েকটি মিলিটারি-গ্রেডের গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। সেই হামলায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত ও স্প্লিন্টারের আঘাতে ৩শ’র বেশি জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। আহতদের মধ্যে অনেকের জীবনযাপন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলেও, কানে আঘাত পান, যার প্রভাবে আজ পর্যন্ত তিনি ভুগছেন।

আক্রমণের লক্ষ্যটি সহজ ছিল: শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা। এটি বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার একটি ছিল। এটি ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ছিল এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করার জন্যই এই হামলা চালানো হয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, হামলাটি চালায় হরকাতুল জিহাদ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন (হুজি)। এরসাথে বিএনপি’র তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি’র উপ-শিক্ষামন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জামায়াতে ইসলামের সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং এনএসআইয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং আইন প্রণয়নকারীরাও সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়া, কাশ্মিরভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন, হিজবুল মুজাহিদিন, তেহরিক জিহাদ-ই ইসলাম, লস্কর-ই-তৈয়বা এবং মিয়ানমার ভিত্তিক রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি গোষ্ঠি এর সাথে জড়িত ছিল।
লেখা- সাইফুল ইসলাম বিপ্লব,প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপ-সম্পাদক,ঢাবি ছাত্রলীগ।

Facebook Comments
Load More Related Articles
Load More By Newsbd24hour.com
Load More In রাজনীতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ক্লাবগুলোতে রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসা,নিশ্চুপ কেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়?

বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘ক্যাসিনো অভিযান’ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছ…