Home রাজনীতি ‘এই কমিটি নেত্রী দিয়েছেন বলেই সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর বিমাতাসুলভ মনোভাব’

‘এই কমিটি নেত্রী দিয়েছেন বলেই সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর বিমাতাসুলভ মনোভাব’

0
751
তানজিল ভূঁইয়া তানভীর

মতামত,তানজিল ভূঁইয়া তানভীরঃ সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যে,একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীকে বাইপাস করে জননেত্রী শেখ হাসিনা শোভন-রাব্বানীকে নির্বাচিত করেছিল।এই সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী অঞ্চলভিত্তিক গঠিত হয়েছে।এর আবার কয়েকটি লেয়ার রয়েছে।এই সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী শোভন-রাব্বানীকে কখনোই মেনে নেয়নি। কেন তারা মেনে নেয় নি?কারন,তারা ছাত্রলীগকে পরিচর্যার লেবাসে একটি বুনিয়াদী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করত বিনিময়ে সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের ভাল-মন্দ দেখভাল করা,বিভিন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,সামাজিক বলয় তৈরি করা।শীর্ষ নেতৃদ্বয়ের কেউ যদি তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়ায়,তাকে সাইড করে দিয়ে বা চাপে রেখে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধ্য করা।

সর্বশেষ বেশ কয়েকটি কমিটির নেতাদ্বয় নির্বাচিত হওয়ার আগের রাতেই তাদের জন্য গাড়ি,ফ্লাট,নগদ অর্থের যোগান হয়ে যেত।আমার প্রশ্ন হল,এই বিশেষ সার্ভিস কোথা থেকে আসত?সেটা কারা ব্যবস্থা করত?এর বিনিময় মূল্য কি ছিল?বর্তমান সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের জন্য কেন তারা এই ব্যবস্থা করেনি?কমিটি নেত্রী দিয়েছেন বলে কি তাদের এই বিমাতাসুলভ মনোভাব?তারা কি পূর্বের ন্যায় বর্তমান নেতাদ্বয়কে বাণিজ্যিক চুক্তি ভিত্তিতে ব্যবহার করতে পারবে না?
প্রশ্নগুলো আপনাদের কাছে রাখলাম।

পূর্বেও বিভিন্ন কাজকর্মের বিনিময়ে কমিটি দেয়া হতো।আপনারা বলবেন,তাহলে সেগুলো কেন প্রকাশ পায় নি?কারণ,সেগুলো নেগোশিয়েশন করার জন্য সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের বিন্দু পরিমাণ মাথা গলানো লাগত না।এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সংঘবদ্ধ ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠী কাজ করত।আপনারা হয়তোবা জেনে থাকবেন,নগরভিত্তিক কোন এক নেতার ভারপ্রাপ্ত উঠানোর বিনিময়ে কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ বরাদ্দ চেয়েছিল।
হ্যাঁ,পার্টি চালাতে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।সাবেক কমিটির নেতাদের এই অর্থের টেনশন করা লাগত না।কিন্তু বর্তমান সভাপতি-সাধারন সম্পাদককে কে এই অর্থের যোগান দিয়ে দলকে চালানোর কাজে সহায়তা করেছে?সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ছাত্রলীগের সমন্বয়ক টিম আর্থিক দৈন্যতার কথা আপনারা জেনে থাকবেন।

আমি বলব না যে,শোভন-রাব্বানীর দোষ নেই।হ্যাঁ,আছে।ওরা অনেকটা না বুঝে ভূল-ত্রুটি করেছে।আপনি একবার ভেবে দেখবেন,শোভন-রাব্বানীকে সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর বিশাল বলয় কর্তৃক সৃষ্ট জটিলতার শিকার কিনা?
আসুন,ভুল শুধরিয়ে সকল ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সংগঠিত করি।

লেখকঃ তানজিল ভূঁইয়া তানভীর,সহ-সভাপতি,বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

Facebook Comments
Load More Related Articles
Load More By Newsbd24hour.com
Load More In রাজনীতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ক্লাবগুলোতে রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসা,নিশ্চুপ কেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়?

বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘ক্যাসিনো অভিযান’ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছ…