Home রাজনীতি পদে নেই তবুও থেমে নেই মানবিকতা

পদে নেই তবুও থেমে নেই মানবিকতা

0
2,727
গোলাম রাব্বানী

মতামত,আমিনুল ইসলাম বুলবুলঃ রাব্বানী ভাইয়ের কোলে একটি হাস্যজ্বল শিশু।দুইপাশে একজন বাচ্চাটির মা অন্যপাশে নানী।

এই রোজার সময়কার ঘটনা।
আমি আর আল-মামুন আইজিআর স্যারের কাছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ইফতারের দাওয়াত কার্ড দিতে গিয়েছিলাম। স্যার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।আমরা তার অফিসের ওয়েটিং রুমে বসলাম। এই বাচ্চাটিকে তখন প্রথম দেখি।বাচ্চাটি তার নানীর কোলে ঘুমাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটি ঘুম থেকে জাগে।স্বভাবতই বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্না করে।কিন্তু ওর মাঝে সেই প্রবনতা নেই বললে চলে।আমি বাচ্চাটিকে কোলে নিলাম। বাচ্চাটি শুধু হাসে।এর মধ্যে দেখি লিলি আপা আসলো সাথে ওর মা আসলে।বোধহয় ওর মা ওকে রেখে নিচে গিয়ে লিলি আপার জন্য অপেক্ষা করছিল।ওর মা লিলি আপার হলের ছোটবোন,একই রুমে থাকতো।যাইহোক এরপর লিলি আপা এবং ওর মা স্যারের রুমে ঢুকলো।মিনিট দুই পর আমরা ঢুকলাম। রুমে অনেক লোক, লিলি আপা স্যারকে বাচ্চাটার মায়ের একটা চাকরি দেয়ার জন্য অনুরোধ করছেন । আর বাচ্চাটির মা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে কাঁদছে আর বলছে,”স্যার আমি এই অসহায় বাচ্চাটিকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো,ওর বাবা এই সবেবরাতের রাতে বাইক এক্সিডেন্টে মারা গেছে,স্যার আমার স্বামীর চাকরিটা আমাকে দেন।”স্যার বললেন তিনি দেখবেন।তারপর বিদায় করলো।আমি আর মামুন সঙ্গে সঙ্গে দাওয়াত কার্ড দিয়ে বেরিয়ে আসলাম। তারপর লিলি আপাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিলাম।লিলি আপা চলে গেল।এরপরে বাচ্চাটার মায়ের সঙ্গে কথা বললাম। সবকিছু শুনে খুব খারাপ লাগলো।এতিম বাচ্চা পৃথিবীর যন্ত্রণা বোঝে না শুধু হাসে।যাইহোক আমি ওর মায়ের নম্বর রেখে দিলাম। আস্বস্ত করলাম যে তার একটা ব্যবস্থা আল্লাহ করবেন,আমরা চেষ্টা করবো।আমি এই মহিলার (মৃত স্বামীর তৃতীয় শ্রেনীর চাকুরী) জন্য অনেক লোকের কাছে দৌড়েছি। সবাই ভাবে ধান্দা করবো।আসলে আমি আজ-অব্দি কারো কাছে কোন কাজের বা চাকুরির তদবির করতে যাই নি।মাস খানেক পর মোটামুটি হাল ছেড়ে দিলাম।

যাইহোক আমি ব্যর্থ হলাম।কিন্তু মহিলাটিকে কিছুই বুঝতে দেই নি।তারপর চিন্তা করলাম রাব্বানী ভাইয়ের কাছে পাঠাই।আমার তখন রাব্বানী ভাইয়ের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। আমি মহিলাটিকে তার বাচ্চাসহ রাব্বানীর বাসায় নিয়ে গেলাম।তখন রাব্বানী ভাই ঘুম। চিন্তা করলাম আল্লাহ যা করে তাই মঙ্গল। আমি ওদের রেখে চলে আসলাম। আসার সময় আমার প্রথমবর্ষের বন্ধু সাহেদকে সবকিছু বললাম, আর অনুরোধ করলাম আমি নিয়ে এসেছি এটা বলিস না।তারপর কি হলো পরে জেনেছি। মহিলাটিকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিলাম। রাব্বানী ভাই বাচ্চাটিকে ৫০০০ টাকা দিয়েছে আর বলছে তোমার চাকরি ব্যবস্থা আমি করবো।
মহিলার সাথে আমি প্রায়ই দেখা করতে যেতাম।কারণ বাচ্চাটার জন্য আমার মায়া হতো।আর ঐ মহিলা রোকেয়া হলের( ৯-১০) ছাত্রী ছিল। যাইহোক গত সপ্তাহে শুনলাম তার চাকুরী হয়েছে।রাব্বানী ভাই তার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শুনে খুব ভালো লাগলো।চোখ দিয়ে পানি চলে আসলো।
ব্যক্তি হিসেবে আমি তাকে মিথ্যাবাদী ভন্ড আর লোক দেখানো নাটকবাজ ভাবতাম।

যাইহোক রাব্বানী ভাই যদি চাঁদাবাজ,ভন্ড, প্রতারকও হয় সে আমার ভাই, আমার নেতা।
এই সমাজের জন্য তার মতো ভন্ড অভিনয়কারি নেতা আমি চাই। যার জন্য একটি এতিম বাচ্চার মা ফোন করে কাঁদে আর বলে”ভাই আপা এটা কি করলো,এটা চরম ষড়যন্ত্র। “

Facebook Comments
Load More Related Articles
Load More By Newsbd24hour.com
Load More In রাজনীতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ক্লাবগুলোতে রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসা,নিশ্চুপ কেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়?

বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘ক্যাসিনো অভিযান’ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছ…